
দোল হোক বা পুজো, রঙিন মিষ্টি আর রাস্তার খাবারের প্রতি টান আমাদের সবারই আছে। কিন্তু এই খাবারগুলির মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে ভয়ঙ্কর বিপদ – ক্যানসারের মতো মারণরোগ!
ফুচকার জলে লুকিয়ে বিপদ
ফুচকার নাম শুনলেই জিভে জল আসে। কিন্তু সম্প্রতি দেখা গিয়েছে, ফুচকার তেঁতুল জলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল কালার ব্যবহার হচ্ছে। সবুজ বা লাল রঙের জল দেখলে মনে হয় পুদিনা বা মশলার মিশ্রণ, অথচ আসলে তা ক্ষতিকারক রাসায়নিক। বিদেশে খাবারে যে রং ব্যবহার হয় সেগুলো দামি এবং নিরাপদ, কিন্তু আমাদের এখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সস্তা ও ক্ষতিকারক রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যা একেবারেই খাওয়ার উপযোগী নয়।
শাকসবজি ও ফলে রাসায়নিকের ব্যবহার
বাজারে অনেক সময় দেখা যায় অতিরিক্ত সবুজ শাক, চকচকে রাঙা আলু, অস্বাভাবিক উজ্জ্বল আম বা লিচু। এগুলির বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্প্রে করা হয় ক্ষতিকারক রাসায়নিক। এগুলি নিয়মিত খেলে শরীরে জমে থেকে ক্যানসারসহ নানা মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
বিরিয়ানির রং ও মাংসের গুণমান
রাস্তায় কম দামে বিক্রি হওয়া বিরিয়ানির রং আনতে অনেক সময় ভেজাল হলুদ বা রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। আসল জাফরান ব্যবহার করা সম্ভব নয় সস্তার খাবারে। এমনকি মাংসের মানও প্রশ্নের মুখে পড়ে। ফলে কমদামের বিরিয়ানি খাওয়া যতটা আকর্ষণীয় মনে হোক, ততটাই বিপজ্জনক হতে পারে।
কাবাব ও পোড়া মাংস
কাবাব বা পোড়া মাংসে হয়তো ইন্ডাস্ট্রিয়াল কালার মেশানো হয় না, কিন্তু পোড়া বা অতিরিক্ত ভাজা মাংস নিজেই ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। দীর্ঘদিন নিয়মিত খেলে শরীরের জন্য তা অত্যন্ত ক্ষতিকারক।
রঙিন মিষ্টির কুফল
উৎসবের মরশুমে বাজারে রঙিন মিষ্টি পাওয়া খুবই সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগুলিতে ব্যবহার হয় শিল্পকারখানার জন্য বানানো ক্ষতিকারক রং। এতে স্বাদে তেমন পরিবর্তন না এলেও শরীরে প্রবেশ করে মারণ রাসায়নিক। বড় দোকানগুলোতে হয়তো কিছুটা নিরাপদ রং ব্যবহার হয়, কিন্তু ছোট দোকানের মিষ্টিতে বিপদের সম্ভাবনা অনেক বেশি।
কীভাবে সাবধান থাকবেন?
খাবারে রং বা কৃত্রিম উপাদান এড়াতে সচেতন থাকুন।র্যত আমাদের শরীরে ক্যানসারকে ডেকে আনে। তাই হলুদ, সবুজ রঙের মিষ্টি না খাওয়াই ভাল। অন্য মিষ্টি খাওয়া তুলনায় শ্রেয়।
- রাস্তার খাবার বিশেষ করে ফুচকা বা রঙিন জল এড়িয়ে চলুন।
- অতিরিক্ত উজ্জ্বল বা অস্বাভাবিক রঙের ফল ও সবজি কেনা থেকে বিরত থাকুন।
- কম দামের বিরিয়ানি বা রঙিন মিষ্টির পরিবর্তে ঘরোয়া খাবারকে প্রাধান্য দিন।

স্ট্রিট ফুডে মেশানো রঙ – ক্যানসারের ভয়াবহ ঝুঁকি
স্ট্রিট ফুড আমাদের অনেকেরই প্রিয়। ফুচকা, কাবাব, বিরিয়ানি কিংবা রঙিন মিষ্টি – সবই জিভে জল আনে। কিন্তু জানেন কি, এই খাবারের মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে ভয়ঙ্কর বিপদ? বিশেষত ইন্ডাস্ট্রিয়াল কালার বা শিল্পকারখানার রং, যা একেবারেই খাওয়ার জন্য উপযুক্ত নয়।
ক্যানসারের ঝুঁকি শরীরের যে কোনও অংশে
ডক্টর সুবীর গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন – এই ধরনের ইন্ডাস্ট্রিয়াল রং শরীরে নিয়মিত প্রবেশ করলে ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি হয়। কোনও নির্দিষ্ট অঙ্গ নয়, শরীরের যেকোনও অংশের কোষ আক্রান্ত হতে পারে।
👉 সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশুরা। অল্প বয়স থেকে যদি বাচ্চারা নিয়মিত স্ট্রিট ফুড খেতে শুরু করে, তবে দীর্ঘদিন ধরে রাসায়নিক শরীরে জমে ক্যানসারের প্রবণতা আরও বেড়ে যায়।
সতর্ক থাকার জন্য ডাক্তারবাবুর পরামর্শ
- স্ট্রিট ফুড একেবারে বারণ নয়, তবে খুব কম খান। মাঝে মাঝে খেলে শরীর সামলাতে পারে, কিন্তু নিয়মিত খেলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
- বাড়ির খাবারে ভরসা রাখুন – এতে তেল, মশলা ও রং নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
- রঙিন মিষ্টি এড়িয়ে চলুন – কমলাভোগ, দরবেশ, হলুদ রাজভোগ, মঠ ইত্যাদি রঙিন মিষ্টি যতটা সম্ভব না খাওয়াই ভালো।
- রেস্তোরাঁর খাবারেও সতর্কতা দরকার – অনেক সময় গ্রেভি বা সসেও রং মেশানো হয়।
- ফল ও সবজি ব্যবহারের আগে ধুয়ে নিন – বাজার থেকে আনা কাঁচা সবজি-ফল অন্তত আধঘণ্টা গরম জলে ভিজিয়ে রাখলে ক্ষতিকারক রাসায়নিক অনেকটাই দূর হয়।
- অতিরিক্ত তেল, ঝাল, মশলাদার খাবার কম খান – এতে পেট ও লিভারের সমস্যাও বাড়ে।
শেষ কথা
স্ট্রিট ফুডের স্বাদ অনন্য, তা মানতেই হবে। তবে সুস্বাদু খাবারের লোভে যদি বারবার রাসায়নিক মেশানো খাবার খাই, তবে তার ফল মারাত্মক হতে পারে। তাই মাঝেমধ্যে খান, কিন্তু রঙিন ও ভেজাল খাবার থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকুন।