হিন্দু ধর্মে মোট ১৬টি সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হলো মৃত্যুর পর অন্তিম ক্রিয়া সম্পন্ন করা, যা জীবনের শেষ বা ১৬ নম্বর সংস্কার হিসেবে ধরা হয়।
আমাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো অন্তিম ক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন। তখনই অনেকের মনে প্রশ্ন আসে—কেন মহিলাদের শ্মশানঘাটে যাওয়া নিষিদ্ধ বলে মনে করা হয়? গরুড় পুরাণে এ বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।
গরুড় পুরাণে উল্লেখিত কারণগুলো
১. নরম হৃদয় ও কান্না
গরুড় পুরাণে বলা হয়েছে, মহিলারা পুরুষের তুলনায় বেশি আবেগপ্রবণ ও নরম হৃদয়ের। অন্তিম ক্রিয়ার সময় তাদের কান্না মৃত আত্মার শান্তি লাভে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই মহিলাদের শ্মশানঘাট থেকে দূরে রাখা হয়।
২. চোখের জল ও আত্মার শান্তি
মৃত ব্যক্তির খুব কাছের কেউ হলে মহিলারা স্বাভাবিকভাবেই কেঁদে ফেলেন। এতে মৃত আত্মা অশান্ত হতে পারে। তাই এই পরিস্থিতি এড়াতেই মহিলাদের উপস্থিতি নিরুৎসাহিত করা হয়।
৩. ভয়ঙ্কর দৃশ্য
চিতার আগুনে দেহ পুড়তে থাকা, মাঝে মাঝে কাঠি দিয়ে চাপা দেওয়া—এসব দৃশ্য ভয়ঙ্কর হতে পারে। মহিলাদের মানসিক স্থিতি ও শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করেই শ্মশানঘাটে তাদের যাওয়া অনুচিত বলে মনে করা হয়।
৪. অশুভ আত্মার প্রভাব
গরুড় পুরাণে বলা হয়েছে, শ্মশানঘাটে অশুভ আত্মার বসবাস থাকে। মহিলারা, বিশেষত কুমারী মেয়েরা, এদের প্রভাবের সহজ শিকার হতে পারেন। এজন্যই তাদের শ্মশান থেকে দূরে রাখার প্রচলন রয়েছে।
৫. ধর্মীয় নিয়ম ও মুণ্ডন প্রথা
অন্তিম ক্রিয়ার পর পুরুষদের মুণ্ডন করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী মহিলাদের মাথার চুল কেটে মুণ্ডন করা অশুভ বলে মনে করা হয়। তাই মহিলাদের শ্মশান উপস্থিতি ধর্মীয় আচার অনুযায়ী শোভন নয়।
বর্তমান প্রেক্ষাপট
আজকের দিনে অনেক জায়গায় মহিলাদের শ্মশানে যাওয়া দেখা যায়। কিন্তু প্রাচীন শাস্ত্রে উল্লেখিত কারণগুলোকে উপেক্ষা না করাই শ্রেয়। প্রতিটি ধর্মীয় নিয়মের পেছনে কোনো না কোনো সামাজিক বা মানসিক কারণ অবশ্যই থাকে।
গরুড় পুরাণে আরও বলা হয়েছে, শ্মশানঘাটে ঘোরাফেরা করা অশরীরী আত্মারা জীবিত মানুষের শরীরে প্রবেশের সুযোগ খোঁজে। ছোট শিশু এবং মহিলারা এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। এজন্যই মহিলাদের এবং বাচ্চাদের শ্মশানে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উপসংহার
বন্ধুরা, আশা করি লেখাটি পড়ে আপনারা বুঝতে পেরেছেন কেন হিন্দু ধর্মে মহিলাদের শ্মশানঘাটে যাওয়া বারণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে এই তথ্য আপনজনের সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন।
ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।
নমস্কার, ধন্যবাদ।
ঈশ্বর আপনার মঙ্গল করুন।